Career Service


কেমন হবে আপনার CV

পেশাকে পেশাদারিত্বে সাথেই নিতে হবে। পেশায় সফলতার জন্য পেশাদারি মনোভাব থাকাটাও জরুরী। সিভি তৈরীর ক্ষেত্রেও একথা সমানভাবে প্রযোজ্য। কেননা একটি পূর্ণাঙ্গ এবং যথার্থভাবে তৈরী সিভি হতে পারে আপনার পেশাজীবনের প্রথম ধাপ। যার মাধ্যমে নিয়োগদাতা আপনার সম্পর্কে বিস্তারিত জানার সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ আপনার সিভি- ই হবে আপনার বিজ্ঞাপন।

চাকরি খোঁজার কথা উঠলে প্রথমেই সিভি বা বায়োডাটার কথা চলে আসে। বায়োডাটাই চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে আপনার যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, সফলতা এককথায় সবকিছুর প্রতিনিধিত্ব করবে। এর উপরই নির্ভর করবে আপনি সাক্ষাৎকারের জন্য ডাক পাবেন কি পাবেন না। চাকরি সন্ধানের ক্ষেত্রে অনিবার্য এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একটি পূর্ণাঙ্গ বায়োডাটা বা সিভি।

চাকরি সন্ধানের ক্ষেত্রে অনেক আবেদনকারীই সাক্ষাৎকারের ডাক পান না। এমনও আছেন অনেকবার অনেক প্রতিষ্ঠানে সিভি। জমা দিয়েছেন কিন্তু এখনো সাক্ষাৎকারের ডাক পান নি। আপনি যে চাকরি চাচ্ছেন সিভি হয়তো তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; অথবা সিভিতে আপনার তথ্যাদি উপস্থাপনে কোথাও ত্রুটি রয়ে গেছে কিংবা সিভিতে সব ধরণের তথ্যই উল্লেখ করেছেন কিন্তু উপস্থাপন কৌশলে কোথাও ভুল রয়ে গেছে আবার এমনও হতে পারে আপনার যোগ্যতা প্রমাণে সবচেয়ে উপযুক্ত তথ্যটিই অন্য সব তথ্যের আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে। আমাদের দেশে বেশিরভাগ চাকরিপ্রার্থী ব্যক্তিগত পরিচয়টাই সিভিতে উপস্থাপন করেন। নিজের গুণ ও দক্ষতাকে তারা উপস্থাপন করেন না বা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেন না। অথচ বর্তমান সময়ের বায়োডাটা বা সিভিতে এর প্রতিটি বিষয়ই উপস্থাপন জরুরী।

সিভি কী :
সিভি’র আভিধানিক অর্থ হলো ব্যক্তিগত পরিচয় ও গুণ সংক্রান্ত তথ্যাবলি। একটি সুসজ্জিত, সামঞ্জস্যপূর্ণ উপস্থাপন। সকল প্রতিষ্ঠানেই এখন বাণিজ্যিক ও পেশাদারী মনোভাব গুরুত্ব পাচ্ছে। কত অল্প সময়ে অধিক কাজ করে সর্বোচ্চ সফলতা অর্জন করা যায় সে চেষ্টো এখন সবাই করে। চাকরির বাজারে এসে যদি নিজেকে উপযুক্ত ও আকর্ষণীয় পণ্য হিসেবে উপস্থাপন উপযুক্ত ও আকর্ষণীয় পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করতে না পারেন তাহলে পিছিয়ে পড়বেন নিশ্চিত। সেক্ষেত্রে আপনার সিভিই হবে আপনার বিজ্ঞাপন। এই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেই আপনি নিয়োগকর্তার সামনে আপনার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরার সুযোহ পাবেন।

বর্তমানে বায়োডাটা শব্দটির পরিবর্তে আরো দুটি শব্দ ব্যবহার করা হয়। একটি রিজিউম (Resume) আরেকটি সিভি অর্থাৎ কারিকুলাম ভিটা (Curriculum Vitae)| সিভির পরিবর্তে রিজিউম শব্দটি প্রয়োগ করা হলেও কারিকুলাম ভিটা কিন্তু প্রয়োগিক অর্থে রিজিউম বা সিভি নয়। যদিও সিভি ও রিজিউম শব্দ দুটি একই উদ্দেশ্য সাধন করে কিন্তু এদের পার্থক্য মূলত গঠন, বিবরণ, দৈর্ঘ্য এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রে।

সিভি তৈরীর পূর্বপ্রস্তুতি :
সিভি তৈরী করার জন্য প্রয়োজন পূর্বপ্রস্তুতি ও পরিকল্পনা। সিভির সাধারণ ফর্মেটে যেসব বিষয় থাকে সেগুলোর কোনটি আপনার জন্য প্রযোজ্য, কোনটি নয়, তা নির্ধারণ এবং বিষয়গুলো কীভাবে উপস্থাপন করবেন সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা উচিত।  নিজের পেশাদারি দিকগুলো জানার উদ্দেশ্যে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর তৈরী করে খাতায় লিখে ফেলুন-
*    আপনার কাঙ্ক্ষিত পেশা বা চাকরির জন্য নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানসমূহ সাধারণত কী কী যোগ্যতা দাবি করে?
*    আপনার যেসব যোগ্যতা আছে সেসবের মধ্যে কোনগুলো প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
*    আপনার কেরিয়ার প্রধান লক্ষণীয় দিকগুলো কী?
*    আপনার দক্ষতা, বিশেষজ্ঞতার শীক্তশারী জায়গা কোনগুলো? আরো কী কী দক্ষতা আপনি ধারণ করেন?
*    কোন বিষয়গুলোকে আপনি আপনার সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করেন?
*    আপনার অর্জনগুলো প্রতিষ্ঠানকে কী ধরনের সুবিধা দেবে?
একটি Effective ও কার্যকরী সিভি তৈরী করার জন্য আপনার সবচেয়ে বড় যে প্রস্তুতিটি থাকা দরকার, তা হলো কেরিয়ার প্ল্যান। সঠিক কেরিয়ার প্ল্যান না থাকলে আপনার সিভি যেমন সঠিকভাবে তৈরী করতে পারবেন না, তেমনি আপগ্রেড করার সুযোগও পাবেন না। আপনি পরিকল্পনা মাফিক চলেন কি না, কেরিয়ারে এগিয়ে যাওয়ার স্পৃহা আপনার কতটুকু। আপনি যে পেশা বা চাকরির জন্য আবেদন করবেন, তা আপনার সহজাত ক্ষমতা, দক্ষতা এবং যোগ্যতার সাথে যুতসই কি না সে বিষয়ে যদি আাপনি সচেতন না থাকেন তাহলে আপনার সিভি এলোমোলো হয়ে যাবে। সিভিতে যেন অপ্রাসাঙ্গিক তথ্য উপস্থাপিত না হয় সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান টার্গেট করে সেসব প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করে আপনার নোট খাতায় কম্পানি প্রোফাইল তৈরী করুন।

সিভিতে সাধারণত যেসব অংশ থাকে :
১।   ব্যাক্তিগত Profile/CV হেডিং
      নাম, ঠিকানা, ফোন, ই-মেইল, ফ্যাক্স, ওয়েব
২।   কেরিয়ার অবজেকটিভ এন্ট্রিলেভেল ফ্রেশনাররে জন্য গুরুত্বপূর্ণ
৩।   কেরিয়ার সামারী (এক্সপেরিয়েন্সড/মিডলেভেল এর জন্য)
৪।   এডুকেশনাল কোয়ালিফিকেশন-
      সর্বশেষে ডিগ্রী, প্রতিষ্ঠানের নাম, মেজর, মাইনর, সময় কাল, রেজাল্ট (স্কলারশীপ, টি.এ ......... সহ বৃত্তি সহ)
৫।   বিশেষ যোগ্যতা (যদি থাকে)
৬।   প্রফেশনাল ট্রেনিং/কোর্স
৭।   অভিজ্ঞতা (যদি থাকে)
      (প্রতিষ্ঠানের নাম, সময়কাল, পদবী, দায়িত্ব কর্তব্য, এটিভমেন্ট)
৮।   একেশনাল একিলিয়েশন
৯।   রেফারেন্স

 

সিবি’র রকমফের :
সিভি কীভাবে একজন নিয়োগদাতার মনোযোগ দ্রুত আকর্ষণ করবে? এটা কেবলমাত্র সিভির ফর্মেটের উপরই নির্ভর করবে। যদি আপনার যোগ্যতা সঠিক ফর্মেটে সাজানো হয় পড়ুয়া নিয়োগদাতা ৮ সেকেন্ডের কম সময়ে শনাক্ত করতে পারবেন আপনি তার প্রতিষ্ঠানের জন্য কতটুকু যোগ্য প্রার্থী। সিভি তৈরীর ফর্মেট ৩ টি; ক্রনোলজিক্যাল, ফাংশনাল এবং Combind. এটি কী রকম হবে তা নির্ভর করবে আপনার ব্যক্তিত্ব ও নিয়োগকর্তার মননের ওপর।

ইলেক্ট্রনিক সিভি :
আজকাল ইন্টারনেটে চাকরি খোঁজার পাশাপাশি ই-মেইলে সিভিও প্রেরণ করা যায়। আপনার যে কোনো ফর্মেটের সিভি ই-মেইলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান বরাবর পাঠিয়ে দিতে পারেন। এক্ষেত্রে ই-মেইলে কিছু ফর্মাল কথা লিখে সিভিটি Attached ফাইল হিসেবে পাঠাতে হয়। অনেক প্রতিষ্ঠানে অন-লাইনে আবেদন করার জন্য Online application form থাকে। এছাড়া চাকরিভিত্তিক বিভিন্ন ওয়েব সাইটেও Online application form থাকে। সেখানেও নিজেকে রেজিস্ট্রার করে নিতে পারেন। এসব ওয়েবসাইটের সুবিধা হলো, প্রয়োজন অনুসারে আপনার সিভিটি পরিবর্তন বা আপগ্রেড করে নিতে পারবেন।

সিভি হেডিং :
সিভির হেডিং- এ আপনার নাম, এবং যোগাযোগের তথ্যাদি থাকবে।

আপনার নাম : সিভির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবিচ্ছেদ্য অংশটি হচ্ছে আপনার নাম। এটা যেনো দ্রুত এবং সহজে দৃশ্যমান হয় সেভাবে সিভিতে যুক্ত করতে হবে।
ঠিকানা : হেডিং- এ স্ট্রীট এড্রস উল্লেখের পর পোস্ট অফিস বক্স নং (P.O Box number) লেখাই শ্রেয়। আপনার আবাসিক ঠিকানা আপনার গতিশীল কর্মমুখী জীবনকে ফটিয়ে তলবে না।
ফোন Number : ফোন Number উল্লেখের ক্ষেত্রে যে Number থেকে আপনি নির্বিঘ্নে কথা বলতে পারেন নিজস্ব বা অফিস Number.
ফ্যাক্স Number : হেডিং- এ ফ্যাক্স Number যোগ করবেন না।
ই-মেইল এড্রস : আপনার ই-মেইল এড্রেস থাকলে তা হেডিং সেকশনে যোগ করুন। এটা আপনার জব সার্চিং- এ সহযোগিতা করবে। সর্বদাই অনলাইনে আপনাকে তারা পাচ্ছে।
ওয়েব এড্রেস : যদি আপনার নিজের ওয়েবসাইট থাকে এবং চাকরির ক্ষেত্রের সাথে তা সম্পর্কযুক্ত হয় তাহলে আপনার URL হেডিং যুক্ত করুন। জব অবজেক্টিভ যতটা সংক্ষিপ্ত করা সম্ভব করবেন। কেই কেই জব অবজেক্টিভলিখতে গিয়ে ‘Challenging position, room for advancement and opportunity to grow’ এমনই সব শিরোনাম দিয়ে থাকেন। এগুলো নিয়োগদাতাকে কিছুই বলে না যাতে তার লাভ হতে পারে। নিয়োগদাতা জানতে চান-
* কাজের ক্ষেত্র
* পদের নাম
* বিশেষায়িত ক্ষেত্র (with a new business developmwnt, focusing on graphic design).

জব অবজেক্টিভের কিছু উদাহরণ :
* Administrative position with a focus on finance.
* Associate Field Producer, TV Programming.

এমন হতে পারে যে আপনার ইনভেলপটা খুললো হিউম্যান রিসোর্স- এর একজন ক্লার্ক। আপনার জব অবজেক্টিভ সেক্ষেত্রে তাকে সাহায্য করবে সঠিক ব্যক্তির কাছে সঠিকভাবে সিভিকে পৌছুতে।

অভিজ্ঞতার সারসংক্ষেপ
পেশার জন্য কেন আপনি একজন আদর্শ প্রার্থী তাই বলবে আপনার যোগ্যতার এই সার সংক্ষেপ অংশটি। এ অংশে আপনি তিনটি বা চারটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় তা বলার চেষ্টা করুন। এ অংশে আপনি আপনার অভিজ্ঞতা, পদবি, আপনার সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন, বিশেষ জ্ঞান ও দক্ষতা, পার্সনাল ভেল্যুজ, ওয়ার্ক এথিকস, ব্যাকগ্রাউন্ড এবং যা আপনার কাঙ্খিত পেশার অনুকূলে বিবেচিত হয়, লিখুন। আপনি বিভিন্ন কর্ম অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে নিজের জন্য যেসব যুক্তি ও মন্তব্য সংযোজন করছেন খেয়াল রাখবেন সিভির বডিতে যা লেখা আছে তার সাথে যেনো সব কিছু সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
উদাহরণ : ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্টে কর্মরত কেউ কেউ লিখে থাকেন, I’ve worked as a financial manager for a mid-sized company for the last 14 years.
অথবা,
14 years as the financial manager of a company with current sales of Tk. 150 million.

নির্দিষ্ট পেশাটির নিয়োগকর্তার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দ হয়ে ওঠে এ অংশটি। পেশাটির সাথে সম্পর্কযুক্ত প্রতিটি বিষয়ই উলে­খ করবেন। চাকরিজীবি হিসেবে, ইন্টার্নী হিসেবে হিসেবে অথবা স্টুডেন্ট রিসার্চ টিমের সদস্য হিসেবে কিংবা অর্গানাইজেশনের কর্মকর্তা হিসেবে যেভাবেই আপনি যোগ দিয়েছিলেন না কেন।